বিশ্বের বিভিন্ন পুরাণগ্রন্থ

 

বিশ্বের বিভিন্ন পুরাণগ্রন্থ শুধু ধর্মীয় বা পৌরাণিক কাহিনীই নয়, এগুলো প্রতিটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। নিচে প্রধান প্রধান পুরাণগ্রন্থ, লেখক (যদি জানা থাকে), এবং আনুমানিক রচনার সময়কালসহ বাংলা উচ্চারণে তুলে ধরছি

 

হিন্দু পুরাণ

১. বেদ (Vedas) → বেদ

লেখক: নির্দিষ্ট নয় (ঋষিদের মৌখিক রচনা)
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব 1500 – 500
প্রধান দেবতা:

·         ইন্দ্র – বজ্র দেবতা, যুদ্ধ ও আকাশের নিয়ন্ত্রক

·         অগনি – আগুনের দেবতা, যজ্ঞ ও প্রার্থনার প্রতীক

·         সুর্য/সাম – সূর্যদেব, জ্ঞান ও আলোর প্রতীক

·         বরুণ – জল ও আইন-নিয়মের দেবতা

২. উপনিষদ (Upanishads) → উপনিষদ

লেখক: নির্দিষ্ট নয়
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব 800 – 200
প্রধান দেবতা:

·         ব্রহ্মা – সৃষ্টির দেবতা, সর্বজ্ঞ ও স্রষ্টা

·         বিষ্ণু – রক্ষাকারী, জগতের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখেন

·         শিব/মহেশ্বর – ধ্বংস ও পুনঃসৃষ্টির দেবতা

·         অহম ব্রহ্মা (আত্মা) – জগতের অভ্যন্তরীণ সত্য

৩. মহাভারত (Mahabharata) → মহাভারত

লেখক: ব্যাস → ব্যাস
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব 400 – খ্রিস্টাব্দ 400
প্রধান দেবতা:

·         কৃষ্ণ – ধর্ম, ন্যায় ও ভক্তির প্রতীক, অর্জুনের উপদেষ্টা

·         ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির – ন্যায় ও সত্যের প্রতীক

·         ভীষ্ম – সততা ও কর্তব্যের প্রতীক

·         দুর্যোধন – অহংকার ও অন্যায়ের প্রতীক (ঐতিহাসিক নৈতিক শিক্ষা)

৪. রামায়ণ (Ramayana) → রামায়ণ

লেখক: বাল্মীকি → বাল্মীকি
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব 500 – খ্রিস্টপূর্ব 100
প্রধান দেবতা:

·         রাম – আদর্শ পুরুষ, সত্য ও ধর্মের প্রতীক

·         সীতা – ধর্ম, ভক্তি ও সতীত্বের প্রতীক

·         লক্ষ্মণ – ভক্তি ও বন্ধুত্বের প্রতীক

·         হানুমান – শক্তি, ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রতীক

·         রাবণ – অহংকার ও অশুভ শক্তির প্রতীক

৫. পুরাণ (Puranas) → পুরাণ

লেখক: ব্যাস → ব্যাস
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টাব্দ 300 – 1000
প্রধান দেবতা:

·         বিষ্ণু – সৃষ্টির রক্ষা ও জীবনরক্ষা, অবতার হিসেবে পৃথিবীতে আগমন

o    অবতার: রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, কালী ইত্যাদি

·         শিব – ধ্বংস ও পুনঃসৃষ্টির দেবতা, যোগ ও ধ্যানের প্রতীক

·         দুর্গা/কালী – শক্তি ও অভিশাপের দেবী, অসুরদের বিনাশকারী

·         লক্ষ্মী – সম্পদ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির দেবী

·         সরস্বতী – জ্ঞান, শিক্ষা ও সঙ্গীতের দেবী

গ্রীক পুরাণ

১. ইলিয়াড (Iliad) → ইলিয়াড

লেখক: হোমার → হোমার
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতক
প্রধান দেবতা:

  • জিউস (Zeus) – আকাশ ও বজ্র দেবতা, দেবরাজ
  • হেরা (Hera) – বিবাহ ও পরিবারের দেবী, জিউসের স্ত্রী
  • অ্যাথেনা (Athena) – যুদ্ধ ও জ্ঞান দেবী, কৌশল ও বুদ্ধির প্রতীক
  • পসেইডন (Poseidon) – সাগর ও ভূমিকম্পের দেবতা
  • অ্যাপোলো (Apollo) – সূর্য, সঙ্গীত ও জ্যোতির দেবতা
  • অ্যারিস (Ares) – যুদ্ধের দেবতা, রণক্ষেত্রে শক্তি প্রদর্শন

মূল বক্তব্য: ট্রোজান যুদ্ধের কাহিনী, দেবতাদের হস্তক্ষেপ ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা

২. ওডিসি (Odyssey) → ওডিসি

লেখক: হোমার
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতক
প্রধান দেবতা:

  • জিউস (Zeus) – দেবরাজ, মানব ও দেবতার কর্মের নিয়ন্ত্রণকারী
  • অ্যাথেনা (Athena) – বুদ্ধি ও কৌশলের দেবী, ওডিসিয়াসের সহায়ক
  • পসেইডন (Poseidon) – সমুদ্র ও ভূমিকম্পের দেবতা, ওডিসিয়াসের যাত্রায় বাধা সৃষ্টি
  • হেলিওস (Helios) – সূর্যদেব, যাত্রার পথে আলো ও পথ নির্দেশক

মূল বক্তব্য: ওডিসিয়াসের ট্রোজান যুদ্ধ থেকে হোম দেশে ফেরার অভিযান এবং দেবতার হস্তক্ষেপ

৩. থিওগনি (Theogony) → থিওগনি

লেখক: হেসিয়ড → হেসিয়ড
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ সালের দিকে
প্রধান দেবতা:

  • ক্রোনাস (Cronus) – সময় ও ক্ষমতার দেবতা, স্বরাষ্ট্রীয় শক্তি
  • উরানাস (Uranus) – আকাশ দেবতা, প্রাথমিক সৃষ্টির প্রতীক
  • গাইয়া (Gaia) – পৃথিবী দেবী, সৃষ্টির জননী
  • জিউস (Zeus) – দেবরাজ, স্বর্গ ও পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকারী

মূল বক্তব্য: দেবতাদের জন্ম, ক্ষমতার বিবরণ এবং দেবরাজ জিউসের উদ্ভব

৪. ওয়ার্কস অ্যান্ড ডেজ (Works and Days) → ওয়ার্কস অ্যান্ড ডেজ

লেখক: হেসিয়ড
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ সালের দিকে
প্রধান দেবতা:

  • জিউস (Zeus) – ন্যায় ও আইন রক্ষাকারী
  • প্রসপেরিনা / পার্সেফোন (Persephone) – ঋতু ও কৃষির দেবী
  • প্লুটো (Plutus) – সম্পদ ও ধন-সম্পদের দেবতা

মূল বক্তব্য: কৃষিকাজ, ন্যায় ও পরিশ্রমের মূল্য, দেবতা ও মানুষের সম্পর্ক

রোমান পুরাণ

১. আনেইড (Aeneid) → আনেইড

লেখক: ভার্জিল → ভার্জিল
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ২৯ – খ্রিস্টপূর্ব ১৯
প্রধান দেবতা:

  • জুপিটার (Jupiter) – দেবরাজ, আকাশ ও আইন রক্ষাকারী
  • জুনো (Juno) – বিবাহ ও পরিবার দেবী, জুপিটারের স্ত্রী
  • মিনারভা (Minerva) – জ্ঞান ও কৌশলের দেবী
  • ভেনাস (Venus) – প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী, আইনের পূর্বপুরুষ হিসেবে ট্রোজানদের সহায়ক
  • নেপচুন (Neptune) – সমুদ্র ও জলজ শক্তির দেবতা
  • মার্স (Mars) – যুদ্ধের দেবতা

মূল বক্তব্য: ট্রোজান হিরো এ্যানিয়াসের রোম গড়ার যাত্রা, দেবতার হস্তক্ষেপ ও মানবিক নৈতিকতা

২. মেটামরফোসিস (Metamorphoses) → মেটামরফোসিস

লেখক: ওভিড → ওভিড
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টাব্দ ৮
প্রধান দেবতা:

  • জুপিটার (Jupiter) – দেবরাজ, আকাশ ও মানুষের নিয়ন্ত্রণকারী
  • মারস (Mars) – যুদ্ধের দেবতা
  • অপোলো (Apollo) – সঙ্গীত, জ্যোতি ও চিকিৎসার দেবতা
  • ডায়ানা (Diana) – চন্দ্র, শিকার ও প্রকৃতির দেবী
  • ভেনাস (Venus) – প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী
  • প্রসেপিনা / প্রোসারপিনা (Proserpina) – কৃষি ও ঋতুর দেবী

মূল বক্তব্য: মানুষের ও দেবতার রূপান্তর (metamorphosis), প্রকৃতির পরিবর্তন ও নৈতিক শিক্ষার কাহিনী

নর্স পুরাণ (স্ক্যান্ডিনেভিয়ান)

১. পোয়েটিক এড্ডা (Poetic Edda) → পোয়েটিক এড্ডা

লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: 13শ শতক
প্রধান দেবতা:

·         ওদিন (Odin) – জ্ঞান, জাদু ও যুদ্ধের দেবতা; অস্থায়ী জীবন ও মৃত্যুর নিয়ন্ত্রক

·         থর (Thor) – বজ্র, বজ্রাস্ত্র (Mjölnir) এবং সুরক্ষা দেবতা

·         ফ্রেয়া (Freyja) – প্রেম, সৌন্দর্য এবং যুদ্ধে বিজয়ী নারীর দেবী

·         লোকি (Loki) – ধূর্ত, ধোঁকা ও রূপান্তরের দেবতা

·         হেল (Hel) – মৃত্যুর ও মৃত্যুর পরে জগতের দেবী

মূল বক্তব্য: দেবতা ও জায়েন্টের কাহিনী, বিশ্ব সৃষ্টির বিবরণ, নৈতিক শিক্ষা

২. প্রোজ এড্ডা (Prose Edda) → প্রোজ এড্ডা

লেখক: স্নোরি স্টারলুসন → স্নোরি স্টারলুসন
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টাব্দ 1220 সালের কাছাকাছি
প্রধান দেবতা:

·         ওদিন (Odin) – জ্ঞান, জাদু, যুদ্ধ ও মৃত্যুর নিয়ন্ত্রক

·         থর (Thor) – বজ্র, সুরক্ষা এবং শক্তির দেবতা

·         ফ্রেয়া (Freyja) – প্রেম, সৌন্দর্য ও যুদ্ধে বিজয়ী দেবী

·         ফ্রে (Freyr) – সমৃদ্ধি, ফসল ও শান্তি দেবতা

·         লোকি (Loki) – কৌশল, ধোঁকা এবং রূপান্তরের দেবতা

মূল বক্তব্য: দেবতাদের genealogy, নৈতিক শিক্ষা ও নৃতাত্ত্বিক গল্প

মিশরীয় পুরাণ

১. পিরামিড টেক্সটস (Pyramid Texts) → পিরামিড টেক্সটস

লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০
প্রধান দেবতা:

  • রা (Ra) – সূর্য দেবতা, সৃষ্টির শক্তি ও আলোর প্রতীক
  • ওসিরিস (Osiris) – মৃত্যুর পর জীবন এবং পুনর্জন্মের দেবতা
  • আইসিস (Isis) – জাদু, প্রেম ও মাতৃত্বের দেবী
  • হরাখট (Horus) – আকাশ ও রাজ্যের দেবতা, রা ও ওসিরিসের সন্তান
  • সেত (Set) – অশুভ শক্তি, যুদ্ধ ও অরাজকতার দেবতা

মূল বক্তব্য: মৃতদের আত্মার নিরাপত্তা, পুনর্জন্ম ও রাজশক্তি

২. কফিন টেক্সটস (Coffin Texts) → কফিন টেক্সটস

লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ – ১৬০০
প্রধান দেবতা:

  • রা (Ra) – সূর্য ও আকাশের দেবতা
  • ওসিরিস (Osiris) – মৃত্যুর পর জীবন ও ন্যায়ের দেবতা
  • আইসিস (Isis) – জাদু, মাতৃত্ব ও সুরক্ষার দেবী
  • হরাখট (Horus) – আকাশ ও রাজত্বের দেবতা
  • অ্যানুবিস (Anubis) – মৃতদেহের সংরক্ষণ ও মমিফিকেশনের দেবতা

মূল বক্তব্য: মৃতদের সুরক্ষা, আত্মার পুনর্জীবন ও ন্যায়বিচারের নির্দেশিকা

৩. বুক অফ দ্য ডেড (Book of the Dead) → বুক অফ দ্য ডেড

লেখক: পুরোহিতগণ
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ১৫৫০ – ৫০
প্রধান দেবতা:

  • রা (Ra) – সূর্য ও জীবনের দেবতা
  • ওসিরিস (Osiris) – মৃত্যুর পর জীবন ও ন্যায়ের দেবতা
  • আইসিস (Isis) – মাতৃত্ব, সুরক্ষা ও জাদুর দেবী
  • হরাখট (Horus) – আকাশ, রাজত্ব ও শক্তির দেবতা
  • অ্যানুবিস (Anubis) – মৃতদেহের রক্ষা ও মমিফিকেশনের দেবতা
  • থথ (Thoth) – জ্ঞান, লেখনী ও ন্যায়ের দেবতা

মূল বক্তব্য: মৃতদের আত্মার নিরাপত্তা ও পুনর্জন্ম, ন্যায়বিচার এবং দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় আচার

মেসোপটেমীয় পুরাণ (সুমের, ব্যাবিলন, আসিরিয়া)

১. এনুমা এলিশ (Enuma Elish) → এনুমা এলিশ

লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১২শ শতক
প্রধান দেবতা:

  • আপসু (Apsu) – মিষ্টি পানির দেব, প্রাথমিক সৃষ্টির অংশ
  • টিয়ামাট (Tiamat) – লবণাক্ত জল ও বিশাল সমুদ্র দেবী, প্রাচীন শক্তি
  • এয়াহ (Ea/Enki) – জ্ঞান, জাদু ও জলের দেবতা
  • মারুদুক (Marduk) – প্রধান দেবতা, সৃষ্টিকর্তা ও শক্তির প্রতীক
  • অ্যানু (Anu) – আকাশের দেবতা, দেবরাজ

মূল বক্তব্য: সৃষ্টির কাহিনী, দেবতা ও দৈত্যের যুদ্ধ এবং মহাবিশ্বের প্রতিষ্ঠা

২. গিলগামেশ মহাকাব্য (Epic of Gilgamesh) → গিলগামেশ মহাকাব্য

লেখক: অজানা (সুমেরীয় কিউনিফর্ম লিপি)
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ – ১২০০
প্রধান দেবতা:

  • শামাশ (Shamash) – সূর্য ও ন্যায়ের দেবতা
  • ইনন্না / ইশতার (Inanna/Ishtar) – প্রেম, প্রজনন ও যুদ্ধের দেবী
  • এয়া / এনকি (Ea/Enki) – জ্ঞান ও জাদুর দেবতা, মানুষের সহায়ক
  • উতনাপিস্তিম (Utnapishtim) – অমরত্ব প্রাপ্ত মানব, দেবতার শিক্ষার মাধ্যমে

মূল বক্তব্য: মানব জীবনের অর্থ, অমরত্বের অনুসন্ধান এবং দেবতা ও মানুষের সম্পর্ক

চীনা পুরাণ

১. শানহাই জিং (Shan Hai Jing) → শানহাই জিং

লেখক: অজানা (পরে সংকলিত)
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৪শ শতক – খ্রিস্টপূর্ব ২শ শতক
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:

·         পান গু (Pangu) – বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, আকাশ ও পৃথিবী আলাদা করেন

·         নুয়া (Nuwa) – মানব সৃষ্টি ও পৃথিবী সংস্কারের দেবী

·         ফু হসি (Fuxi) – সভ্যতা, বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ ও পদ্ধতির দেবতা

·         শি হুয়াং (Shih Huang) – কিংবদন্তি রাজা, আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক

মূল বক্তব্য: পৃথিবী ও জীবের সৃষ্টির কাহিনী, দেব-মানব সম্পর্ক, স্থান ও প্রাকৃতিক নিদর্শন

২. আই চিং (I Ching) → আই চিং

লেখক: কিং ওয়েন, পরে কনফুসিয়াস দ্বারা সম্পাদিত
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ – ৫০০
প্রধান দেবতা ও শক্তি:

·         তিয়ান (Tian) – আকাশ ও স্বর্গের শক্তি, নৈতিক নিয়মের প্রতীক

·         ই-চিং চিহ্নের দেবতা – জীবন, ভাগ্য ও পরিবর্তনের নিয়ন্ত্রণ

·         কোংফুসিয়াস (Confucius) – দার্শনিক শিক্ষার মাধ্যম (পরবর্তীতে সম্পাদনা ও ব্যাখ্যা)

মূল বক্তব্য: বিশ্ব, ন্যায়, ভাগ্য ও পরিবর্তনের নিয়ম, নৈতিকতা ও জীবন নির্দেশিকা

জাপানি পুরাণ

১. কোজিকি (Kojiki) → কোজিকি

লেখক: ও নো ইয়াসুমারো
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টাব্দ ৭১২
প্রধান দেবতা:

·         ইযানাগি (Izanagi) – সৃষ্টিকর্তা দেবতা, ভূমি ও আকাশের সৃষ্টি করেছেন

·         ইযানামি (Izanami) – সৃষ্টি ও মৃত্যু দেবী, জীবনের চক্রের প্রতীক

·         আমাতেরাসু (Amaterasu) – সূর্য দেবী, সম্রাজ্য ও আলোর প্রতীক

·         সুসানোও (Susanoo) – সমুদ্র ও ঝড়ের দেবতা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক

·         সারুকাহিমে (Sarukahime) – বন ও পশুপাখির দেবী

মূল বক্তব্য: পৃথিবী ও দ্বীপসমূহের সৃষ্টি, দেবতার genealogy ও নৈতিক শিক্ষা

২. নিহোন শোকি (Nihon Shoki) → নিহোন শোকি

লেখক: ও নো ইয়াসুমারো
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টাব্দ ৭২০
প্রধান দেবতা:

·         আমাতেরাসু (Amaterasu) – সূর্য দেবী, জাপানের রাজপরিবারের পূর্বপুরুষ

·         সুসানোও (Susanoo) – সমুদ্র ও ঝড়ের দেবতা, সাহস ও শক্তির প্রতীক

·         সা-সুকে (Tsukuyomi) – চাঁদ দেবতা, রাত ও সময়ের নিয়ন্ত্রক

·         ইযানাগি ও ইযানামি – সৃষ্টির দেবদম্পতি

·         ওকুনিনুশি (Okuninushi) – ভূমি ও সমৃদ্ধির দেবতা

মূল বক্তব্য: জাপানের দ্বীপ ও রাজতন্ত্রের উৎপত্তি, দেবতার genealogy এবং নৈতিক শিক্ষা

মায়ান পুরাণ

১. পোপল ভুহ (Popol Vuh) → পোপল ভুহ

লেখক: অজানা (কিচে’ মায়া জনগোষ্ঠী)
রচনার সময়কাল: 16শ শতক
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:

·         হুরাকান (Huracan) – বাতাস, ঝড় ও সৃষ্টির দেবতা

·         গুকুমাতিজ (Gukumatz) – চাষাবাদ, শস্য ও সমৃদ্ধির দেবতা, কোয়েটজালকোয়াতল এর মতো সাপ-নৃত্য দেবতা

·         টোকোলো (Tocotl) – সূর্য ও আলো দেবতা

·         ইক্সচি'ক (Ixchel) – চন্দ্র, মাতৃত্ব ও চিকিৎসার দেবী

·         হুনাহপু ও শুবহু (Hunahpu & Xbalanque) – দ্বি-ভ্রাতৃক হিরো দেবতা, নৈতিক শিক্ষা ও সৃজনশীলতার প্রতীক

মূল বক্তব্য:

·         সৃষ্টির কাহিনী, মানবজাতির উৎপত্তি ও দেব-মানব সম্পর্ক

·         নৈতিক শিক্ষা, ন্যায় এবং মানব জীবনের উদ্দেশ্য

·         প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তির ব্যাখ্যা

ইনকা পুরাণ

১. হুয়ারোচিরি ম্যানুস্ক্রিপ্ট (Huarochirí Manuscript) → হুয়ারোচিরি ম্যানুস্ক্রিপ্ট

লেখক: অজানা (কেচুয়া জনগোষ্ঠী)
রচনার সময়কাল: 16শ শতকের শেষ
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:

  • ইলাপা (Illapa) – বজ্র, বৃষ্টি ও যুদ্ধের দেবতা
  • পাচাকুতি (Pachacuti / Pachamama) – পৃথিবী, কৃষি ও সমৃদ্ধির দেবতা
  • ভিরাকোচা (Viracocha) – সৃষ্টিকর্তা দেবতা, সূর্য, আকাশ ও নৈতিকতা নিয়ন্ত্রণকারী
  • সাপা ইনকা (Sapa Inca) – মানব ও দেবতার মধ্যস্থতাকারী, রাজতন্ত্রের প্রতীক
  • কোয়িলা (Quilla) – চাঁদ ও মহিলাদের প্রজননের দেবী

মূল বক্তব্য:

  • পৃথিবী ও মানবজাতির সৃষ্টির কাহিনী
  • নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক নিয়মাবলী
  • প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তির ব্যাখ্যা

কেল্টিক পুরাণ

১. মাবিনোগিওন (Mabinogion) → মাবিনোগিওন

লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: 12শ – 13শ শতক
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:

·         দানু (Danu) – নদী ও প্রাচীন দেবী, ডানুয়ান জাতির জননী

·         লুগ (Lugh) – সূর্য, জ্ঞান, কৌশল ও যুদ্ধে বিজয়ের দেবতা

·         ওয়েল (Wel / Belenus) – সূর্য, আলো ও উর্বরতার দেবতা

·         অ্যানানসি / অন্যান্য স্থানীয় দেবতা – গল্প, জ্ঞান ও নৈতিকতার প্রতীক

মূল বক্তব্য: কেল্টিক নৈতিকতা, রাজপরিবার ও পৌরাণিক ইতিহাস

২. লেবোর গাবালা এরেন (Lebor Gabála Érenn / Book of Invasions) → লেবোর গাবালা এরেন

লেখক: আইরিশ ভিক্ষুগণ
রচনার সময়কাল: 11শ শতক
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:

·         দানু (Danu) – নদী ও মাতৃত্বের দেবী

·         লুগ (Lugh) – সূর্য, কৌশল ও যুদ্ধে বিজয়ের দেবতা

·         দাগডা (Dagda) – সৃষ্টিশীলতা, প্রাকৃতিক শক্তি ও সমৃদ্ধির দেবতা

·         ব্রিগিড (Brigid) – কবিতা, শিল্প ও চিকিৎসার দেবী

মূল বক্তব্য: আইরিশ জাতির ইতিহাস, সৃষ্টির কাহিনী ও দেব-দেবীর genealogy

Comments

Popular posts from this blog

Fill in the blanks with explanation

বিসিএস পরীক্ষায় প্রদত্ত Preposition -এর প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা

Auxiliary Verb ও তার ব্যবহার