বিশ্বের বিভিন্ন পুরাণগ্রন্থ
বিশ্বের বিভিন্ন
পুরাণগ্রন্থ শুধু
ধর্মীয় বা
পৌরাণিক কাহিনীই
নয়, এগুলো
প্রতিটি জাতির
ইতিহাস, সংস্কৃতি
ও বিশ্বাসের
প্রতিফলন। নিচে
প্রধান প্রধান
পুরাণগ্রন্থ, লেখক
(যদি জানা
থাকে), এবং
আনুমানিক রচনার
সময়কালসহ বাংলা
উচ্চারণে তুলে
ধরছি
হিন্দু পুরাণ
১. বেদ (Vedas) → বেদ
লেখক: নির্দিষ্ট নয় (ঋষিদের মৌখিক রচনা)
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টপূর্ব 1500 – 500
প্রধান দেবতা:
·
ইন্দ্র – বজ্র দেবতা, যুদ্ধ ও আকাশের নিয়ন্ত্রক
·
অগনি – আগুনের দেবতা, যজ্ঞ ও প্রার্থনার প্রতীক
·
সুর্য/সাম – সূর্যদেব, জ্ঞান ও আলোর প্রতীক
·
বরুণ – জল ও আইন-নিয়মের দেবতা
২. উপনিষদ (Upanishads) → উপনিষদ
লেখক: নির্দিষ্ট নয়
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টপূর্ব 800 – 200
প্রধান দেবতা:
·
ব্রহ্মা – সৃষ্টির দেবতা, সর্বজ্ঞ ও স্রষ্টা
·
বিষ্ণু – রক্ষাকারী, জগতের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখেন
·
শিব/মহেশ্বর – ধ্বংস ও পুনঃসৃষ্টির দেবতা
·
অহম ব্রহ্মা (আত্মা) – জগতের অভ্যন্তরীণ সত্য
৩. মহাভারত (Mahabharata) → মহাভারত
লেখক: ব্যাস → ব্যাস
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টপূর্ব 400 – খ্রিস্টাব্দ 400
প্রধান দেবতা:
·
কৃষ্ণ – ধর্ম, ন্যায় ও ভক্তির প্রতীক, অর্জুনের উপদেষ্টা
·
ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির – ন্যায় ও সত্যের প্রতীক
·
ভীষ্ম – সততা ও কর্তব্যের প্রতীক
·
দুর্যোধন – অহংকার ও অন্যায়ের প্রতীক (ঐতিহাসিক নৈতিক শিক্ষা)
৪. রামায়ণ (Ramayana) → রামায়ণ
লেখক: বাল্মীকি → বাল্মীকি
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টপূর্ব 500 – খ্রিস্টপূর্ব 100
প্রধান দেবতা:
·
রাম – আদর্শ পুরুষ, সত্য ও ধর্মের প্রতীক
·
সীতা – ধর্ম, ভক্তি ও সতীত্বের প্রতীক
·
লক্ষ্মণ – ভক্তি ও বন্ধুত্বের প্রতীক
·
হানুমান – শক্তি, ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রতীক
·
রাবণ – অহংকার ও অশুভ শক্তির প্রতীক
৫. পুরাণ (Puranas) → পুরাণ
লেখক: ব্যাস → ব্যাস
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টাব্দ 300 – 1000
প্রধান দেবতা:
·
বিষ্ণু – সৃষ্টির রক্ষা ও জীবনরক্ষা, অবতার হিসেবে পৃথিবীতে আগমন
o অবতার: রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, কালী ইত্যাদি
·
শিব – ধ্বংস ও পুনঃসৃষ্টির দেবতা, যোগ ও ধ্যানের প্রতীক
·
দুর্গা/কালী – শক্তি ও অভিশাপের দেবী, অসুরদের বিনাশকারী
·
লক্ষ্মী – সম্পদ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির দেবী
·
সরস্বতী – জ্ঞান, শিক্ষা ও সঙ্গীতের দেবী
গ্রীক পুরাণ
১. ইলিয়াড (Iliad) → ইলিয়াড
লেখক: হোমার → হোমার
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতক
প্রধান দেবতা:
- জিউস
(Zeus) – আকাশ ও বজ্র দেবতা, দেবরাজ
- হেরা
(Hera) – বিবাহ ও পরিবারের দেবী,
জিউসের স্ত্রী
- অ্যাথেনা
(Athena) – যুদ্ধ ও জ্ঞান দেবী, কৌশল ও
বুদ্ধির প্রতীক
- পসেইডন
(Poseidon) – সাগর ও ভূমিকম্পের দেবতা
- অ্যাপোলো
(Apollo) – সূর্য, সঙ্গীত ও জ্যোতির
দেবতা
- অ্যারিস
(Ares) – যুদ্ধের দেবতা, রণক্ষেত্রে
শক্তি প্রদর্শন
মূল বক্তব্য: ট্রোজান যুদ্ধের
কাহিনী, দেবতাদের হস্তক্ষেপ ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা
২. ওডিসি (Odyssey) → ওডিসি
লেখক: হোমার
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতক
প্রধান দেবতা:
- জিউস
(Zeus) – দেবরাজ, মানব ও দেবতার কর্মের
নিয়ন্ত্রণকারী
- অ্যাথেনা
(Athena) – বুদ্ধি ও কৌশলের দেবী,
ওডিসিয়াসের সহায়ক
- পসেইডন
(Poseidon) – সমুদ্র ও ভূমিকম্পের দেবতা,
ওডিসিয়াসের যাত্রায় বাধা সৃষ্টি
- হেলিওস
(Helios) – সূর্যদেব, যাত্রার পথে আলো ও
পথ নির্দেশক
মূল বক্তব্য: ওডিসিয়াসের
ট্রোজান যুদ্ধ থেকে হোম দেশে ফেরার অভিযান এবং দেবতার হস্তক্ষেপ
৩. থিওগনি (Theogony) → থিওগনি
লেখক: হেসিয়ড → হেসিয়ড
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ সালের দিকে
প্রধান দেবতা:
- ক্রোনাস
(Cronus) – সময় ও ক্ষমতার দেবতা,
স্বরাষ্ট্রীয় শক্তি
- উরানাস
(Uranus) – আকাশ দেবতা, প্রাথমিক সৃষ্টির
প্রতীক
- গাইয়া
(Gaia) – পৃথিবী দেবী, সৃষ্টির জননী
- জিউস
(Zeus) – দেবরাজ, স্বর্গ ও পৃথিবীর
নিয়ন্ত্রণকারী
মূল বক্তব্য: দেবতাদের জন্ম,
ক্ষমতার বিবরণ এবং দেবরাজ জিউসের উদ্ভব
৪. ওয়ার্কস অ্যান্ড ডেজ (Works and
Days) →
ওয়ার্কস অ্যান্ড ডেজ
লেখক: হেসিয়ড
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ সালের দিকে
প্রধান দেবতা:
- জিউস
(Zeus) – ন্যায় ও আইন রক্ষাকারী
- প্রসপেরিনা
/ পার্সেফোন (Persephone) – ঋতু ও
কৃষির দেবী
- প্লুটো
(Plutus) – সম্পদ ও ধন-সম্পদের দেবতা
মূল বক্তব্য: কৃষিকাজ, ন্যায়
ও পরিশ্রমের মূল্য, দেবতা ও মানুষের সম্পর্ক
রোমান পুরাণ
১. আনেইড (Aeneid) → আনেইড
লেখক: ভার্জিল → ভার্জিল
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ২৯ – খ্রিস্টপূর্ব ১৯
প্রধান দেবতা:
- জুপিটার
(Jupiter) – দেবরাজ, আকাশ ও আইন রক্ষাকারী
- জুনো
(Juno) – বিবাহ ও পরিবার দেবী,
জুপিটারের স্ত্রী
- মিনারভা
(Minerva) – জ্ঞান ও কৌশলের দেবী
- ভেনাস
(Venus) – প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী,
আইনের পূর্বপুরুষ হিসেবে ট্রোজানদের সহায়ক
- নেপচুন
(Neptune) – সমুদ্র ও জলজ শক্তির দেবতা
- মার্স
(Mars) – যুদ্ধের দেবতা
মূল বক্তব্য: ট্রোজান হিরো
এ্যানিয়াসের রোম গড়ার যাত্রা, দেবতার হস্তক্ষেপ ও মানবিক নৈতিকতা
২. মেটামরফোসিস (Metamorphoses) → মেটামরফোসিস
লেখক: ওভিড → ওভিড
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টাব্দ ৮
প্রধান দেবতা:
- জুপিটার
(Jupiter) – দেবরাজ, আকাশ ও মানুষের
নিয়ন্ত্রণকারী
- মারস
(Mars) – যুদ্ধের দেবতা
- অপোলো
(Apollo) – সঙ্গীত, জ্যোতি ও চিকিৎসার
দেবতা
- ডায়ানা
(Diana) – চন্দ্র, শিকার ও প্রকৃতির
দেবী
- ভেনাস
(Venus) – প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী
- প্রসেপিনা
/ প্রোসারপিনা (Proserpina) – কৃষি ও
ঋতুর দেবী
মূল বক্তব্য: মানুষের ও দেবতার
রূপান্তর (metamorphosis), প্রকৃতির পরিবর্তন ও নৈতিক শিক্ষার কাহিনী
নর্স পুরাণ (স্ক্যান্ডিনেভিয়ান)
১. পোয়েটিক এড্ডা (Poetic Edda) → পোয়েটিক এড্ডা
লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: 13শ শতক
প্রধান দেবতা:
·
ওদিন (Odin) – জ্ঞান, জাদু ও যুদ্ধের দেবতা; অস্থায়ী জীবন ও মৃত্যুর
নিয়ন্ত্রক
·
থর (Thor) – বজ্র, বজ্রাস্ত্র (Mjölnir) এবং সুরক্ষা দেবতা
·
ফ্রেয়া (Freyja) – প্রেম, সৌন্দর্য এবং যুদ্ধে বিজয়ী নারীর দেবী
·
লোকি (Loki) – ধূর্ত, ধোঁকা ও রূপান্তরের দেবতা
·
হেল (Hel) – মৃত্যুর ও মৃত্যুর পরে জগতের দেবী
মূল বক্তব্য: দেবতা ও জায়েন্টের কাহিনী, বিশ্ব
সৃষ্টির বিবরণ, নৈতিক শিক্ষা
২. প্রোজ এড্ডা (Prose Edda) → প্রোজ এড্ডা
লেখক: স্নোরি স্টারলুসন → স্নোরি স্টারলুসন
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টাব্দ 1220 সালের কাছাকাছি
প্রধান দেবতা:
·
ওদিন (Odin) – জ্ঞান, জাদু, যুদ্ধ ও মৃত্যুর নিয়ন্ত্রক
·
থর (Thor) – বজ্র, সুরক্ষা এবং শক্তির দেবতা
·
ফ্রেয়া (Freyja) – প্রেম, সৌন্দর্য ও যুদ্ধে বিজয়ী দেবী
·
ফ্রে (Freyr) – সমৃদ্ধি, ফসল ও শান্তি দেবতা
·
লোকি (Loki) – কৌশল, ধোঁকা এবং রূপান্তরের দেবতা
মূল বক্তব্য: দেবতাদের genealogy, নৈতিক শিক্ষা ও
নৃতাত্ত্বিক গল্প
মিশরীয় পুরাণ
১. পিরামিড টেক্সটস (Pyramid Texts) → পিরামিড টেক্সটস
লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০
প্রধান দেবতা:
- রা
(Ra) – সূর্য দেবতা, সৃষ্টির শক্তি ও
আলোর প্রতীক
- ওসিরিস
(Osiris) – মৃত্যুর পর জীবন এবং পুনর্জন্মের
দেবতা
- আইসিস
(Isis) – জাদু, প্রেম ও মাতৃত্বের দেবী
- হরাখট
(Horus) – আকাশ ও রাজ্যের দেবতা, রা ও
ওসিরিসের সন্তান
- সেত
(Set) – অশুভ শক্তি, যুদ্ধ ও অরাজকতার
দেবতা
মূল বক্তব্য: মৃতদের আত্মার
নিরাপত্তা, পুনর্জন্ম ও রাজশক্তি
২. কফিন টেক্সটস (Coffin Texts) → কফিন টেক্সটস
লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ – ১৬০০
প্রধান দেবতা:
- রা
(Ra) – সূর্য ও আকাশের দেবতা
- ওসিরিস
(Osiris) – মৃত্যুর পর জীবন ও ন্যায়ের
দেবতা
- আইসিস
(Isis) – জাদু, মাতৃত্ব ও সুরক্ষার
দেবী
- হরাখট
(Horus) – আকাশ ও রাজত্বের দেবতা
- অ্যানুবিস
(Anubis) – মৃতদেহের সংরক্ষণ ও
মমিফিকেশনের দেবতা
মূল বক্তব্য: মৃতদের সুরক্ষা,
আত্মার পুনর্জীবন ও ন্যায়বিচারের নির্দেশিকা
৩. বুক অফ দ্য ডেড (Book of the Dead)
→
বুক অফ দ্য ডেড
লেখক: পুরোহিতগণ
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ১৫৫০ – ৫০
প্রধান দেবতা:
- রা
(Ra) – সূর্য ও জীবনের দেবতা
- ওসিরিস
(Osiris) – মৃত্যুর পর জীবন ও ন্যায়ের
দেবতা
- আইসিস
(Isis) – মাতৃত্ব, সুরক্ষা ও জাদুর
দেবী
- হরাখট
(Horus) – আকাশ, রাজত্ব ও শক্তির দেবতা
- অ্যানুবিস
(Anubis) – মৃতদেহের রক্ষা ও মমিফিকেশনের
দেবতা
- থথ
(Thoth) – জ্ঞান, লেখনী ও ন্যায়ের
দেবতা
মূল বক্তব্য: মৃতদের আত্মার
নিরাপত্তা ও পুনর্জন্ম, ন্যায়বিচার এবং দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় আচার
মেসোপটেমীয় পুরাণ (সুমের, ব্যাবিলন,
আসিরিয়া)
১. এনুমা এলিশ (Enuma Elish) → এনুমা এলিশ
লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১২শ শতক
প্রধান দেবতা:
- আপসু
(Apsu) – মিষ্টি পানির দেব, প্রাথমিক
সৃষ্টির অংশ
- টিয়ামাট
(Tiamat) – লবণাক্ত জল ও বিশাল সমুদ্র
দেবী, প্রাচীন শক্তি
- এয়াহ
(Ea/Enki) – জ্ঞান, জাদু ও জলের দেবতা
- মারুদুক
(Marduk) – প্রধান দেবতা, সৃষ্টিকর্তা ও
শক্তির প্রতীক
- অ্যানু
(Anu) – আকাশের দেবতা, দেবরাজ
মূল বক্তব্য: সৃষ্টির কাহিনী,
দেবতা ও দৈত্যের যুদ্ধ এবং মহাবিশ্বের প্রতিষ্ঠা
২. গিলগামেশ মহাকাব্য (Epic of
Gilgamesh) →
গিলগামেশ মহাকাব্য
লেখক: অজানা (সুমেরীয় কিউনিফর্ম
লিপি)
রচনার সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ – ১২০০
প্রধান দেবতা:
- শামাশ
(Shamash) – সূর্য ও ন্যায়ের দেবতা
- ইনন্না
/ ইশতার (Inanna/Ishtar) – প্রেম,
প্রজনন ও যুদ্ধের দেবী
- এয়া
/ এনকি (Ea/Enki) – জ্ঞান ও জাদুর দেবতা, মানুষের
সহায়ক
- উতনাপিস্তিম
(Utnapishtim) – অমরত্ব প্রাপ্ত মানব, দেবতার
শিক্ষার মাধ্যমে
মূল বক্তব্য: মানব জীবনের
অর্থ, অমরত্বের অনুসন্ধান এবং দেবতা ও মানুষের সম্পর্ক
চীনা পুরাণ
১. শানহাই জিং (Shan Hai Jing) → শানহাই জিং
লেখক: অজানা (পরে সংকলিত)
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টপূর্ব ৪শ শতক – খ্রিস্টপূর্ব ২শ শতক
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:
·
পান গু (Pangu) – বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, আকাশ ও পৃথিবী আলাদা করেন
·
নুয়া (Nuwa) – মানব সৃষ্টি ও পৃথিবী সংস্কারের দেবী
·
ফু হসি (Fuxi) – সভ্যতা, বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ ও পদ্ধতির দেবতা
·
শি হুয়াং (Shih Huang) – কিংবদন্তি রাজা, আধ্যাত্মিক
শক্তির প্রতীক
মূল বক্তব্য: পৃথিবী ও জীবের সৃষ্টির কাহিনী,
দেব-মানব সম্পর্ক, স্থান ও প্রাকৃতিক নিদর্শন
২. আই চিং (I Ching) → আই চিং
লেখক: কিং ওয়েন, পরে কনফুসিয়াস দ্বারা
সম্পাদিত
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ – ৫০০
প্রধান দেবতা ও শক্তি:
·
তিয়ান (Tian) – আকাশ ও স্বর্গের শক্তি, নৈতিক নিয়মের প্রতীক
·
ই-চিং চিহ্নের দেবতা – জীবন, ভাগ্য ও পরিবর্তনের নিয়ন্ত্রণ
·
কোংফুসিয়াস (Confucius) – দার্শনিক শিক্ষার মাধ্যম
(পরবর্তীতে সম্পাদনা ও ব্যাখ্যা)
মূল বক্তব্য: বিশ্ব, ন্যায়, ভাগ্য ও পরিবর্তনের
নিয়ম, নৈতিকতা ও জীবন নির্দেশিকা
জাপানি পুরাণ
১. কোজিকি (Kojiki) → কোজিকি
লেখক: ও নো ইয়াসুমারো
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টাব্দ ৭১২
প্রধান দেবতা:
·
ইযানাগি (Izanagi) – সৃষ্টিকর্তা দেবতা, ভূমি ও আকাশের সৃষ্টি করেছেন
·
ইযানামি (Izanami) – সৃষ্টি ও মৃত্যু দেবী, জীবনের চক্রের প্রতীক
·
আমাতেরাসু (Amaterasu) – সূর্য দেবী, সম্রাজ্য ও আলোর
প্রতীক
·
সুসানোও (Susanoo) – সমুদ্র ও ঝড়ের দেবতা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক
·
সারুকাহিমে (Sarukahime) – বন ও পশুপাখির দেবী
মূল বক্তব্য: পৃথিবী ও দ্বীপসমূহের সৃষ্টি,
দেবতার genealogy ও নৈতিক শিক্ষা
২. নিহোন শোকি (Nihon Shoki) → নিহোন শোকি
লেখক: ও নো ইয়াসুমারো
রচনার সময়কাল:
খ্রিস্টাব্দ ৭২০
প্রধান দেবতা:
·
আমাতেরাসু (Amaterasu) – সূর্য দেবী, জাপানের রাজপরিবারের
পূর্বপুরুষ
·
সুসানোও (Susanoo) – সমুদ্র ও ঝড়ের দেবতা, সাহস ও শক্তির প্রতীক
·
সা-সুকে (Tsukuyomi) – চাঁদ দেবতা, রাত ও সময়ের নিয়ন্ত্রক
·
ইযানাগি ও ইযানামি – সৃষ্টির দেবদম্পতি
·
ওকুনিনুশি (Okuninushi) – ভূমি ও সমৃদ্ধির দেবতা
মূল বক্তব্য: জাপানের দ্বীপ ও রাজতন্ত্রের
উৎপত্তি, দেবতার genealogy এবং নৈতিক শিক্ষা
মায়ান পুরাণ
১. পোপল ভুহ (Popol Vuh) → পোপল ভুহ
লেখক: অজানা (কিচে’ মায়া জনগোষ্ঠী)
রচনার সময়কাল: 16শ শতক
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:
·
হুরাকান (Huracan) – বাতাস, ঝড় ও সৃষ্টির দেবতা
·
গুকুমাতিজ (Gukumatz) – চাষাবাদ, শস্য ও সমৃদ্ধির দেবতা, কোয়েটজালকোয়াতল
এর মতো সাপ-নৃত্য দেবতা
·
টোকোলো (Tocotl) – সূর্য ও আলো দেবতা
·
ইক্সচি'ক (Ixchel) – চন্দ্র, মাতৃত্ব ও চিকিৎসার দেবী
·
হুনাহপু ও শুবহু (Hunahpu & Xbalanque) – দ্বি-ভ্রাতৃক হিরো দেবতা, নৈতিক
শিক্ষা ও সৃজনশীলতার প্রতীক
মূল বক্তব্য:
·
সৃষ্টির
কাহিনী, মানবজাতির উৎপত্তি ও দেব-মানব সম্পর্ক
·
নৈতিক
শিক্ষা, ন্যায় এবং মানব জীবনের উদ্দেশ্য
·
প্রাকৃতিক
ও আধ্যাত্মিক শক্তির ব্যাখ্যা
ইনকা পুরাণ
১. হুয়ারোচিরি ম্যানুস্ক্রিপ্ট
(Huarochirí Manuscript) →
হুয়ারোচিরি ম্যানুস্ক্রিপ্ট
লেখক: অজানা (কেচুয়া জনগোষ্ঠী)
রচনার সময়কাল: 16শ শতকের শেষ
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:
- ইলাপা
(Illapa) – বজ্র, বৃষ্টি ও যুদ্ধের দেবতা
- পাচাকুতি
(Pachacuti / Pachamama) – পৃথিবী,
কৃষি ও সমৃদ্ধির দেবতা
- ভিরাকোচা
(Viracocha) – সৃষ্টিকর্তা দেবতা, সূর্য,
আকাশ ও নৈতিকতা নিয়ন্ত্রণকারী
- সাপা
ইনকা (Sapa Inca) – মানব ও দেবতার মধ্যস্থতাকারী,
রাজতন্ত্রের প্রতীক
- কোয়িলা
(Quilla) – চাঁদ ও মহিলাদের প্রজননের
দেবী
মূল বক্তব্য:
- পৃথিবী
ও মানবজাতির সৃষ্টির কাহিনী
- নৈতিক
শিক্ষা ও সামাজিক নিয়মাবলী
- প্রাকৃতিক
ও আধ্যাত্মিক শক্তির ব্যাখ্যা
কেল্টিক পুরাণ
১. মাবিনোগিওন (Mabinogion) → মাবিনোগিওন
লেখক: অজানা
রচনার সময়কাল: 12শ –
13শ শতক
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:
·
দানু (Danu) – নদী ও প্রাচীন দেবী, ডানুয়ান জাতির জননী
·
লুগ (Lugh) – সূর্য, জ্ঞান, কৌশল ও যুদ্ধে বিজয়ের দেবতা
·
ওয়েল (Wel / Belenus) – সূর্য, আলো ও উর্বরতার দেবতা
·
অ্যানানসি / অন্যান্য স্থানীয় দেবতা – গল্প, জ্ঞান ও নৈতিকতার প্রতীক
মূল বক্তব্য: কেল্টিক নৈতিকতা, রাজপরিবার ও
পৌরাণিক ইতিহাস
২. লেবোর গাবালা এরেন (Lebor Gabála Érenn / Book of
Invasions) → লেবোর গাবালা এরেন
লেখক: আইরিশ ভিক্ষুগণ
রচনার সময়কাল: 11শ শতক
প্রধান দেবতা ও চরিত্র:
·
দানু (Danu) – নদী ও মাতৃত্বের দেবী
·
লুগ (Lugh) – সূর্য, কৌশল ও যুদ্ধে বিজয়ের দেবতা
·
দাগডা (Dagda) – সৃষ্টিশীলতা, প্রাকৃতিক শক্তি ও সমৃদ্ধির দেবতা
·
ব্রিগিড (Brigid) – কবিতা, শিল্প ও চিকিৎসার দেবী
মূল বক্তব্য: আইরিশ জাতির ইতিহাস, সৃষ্টির কাহিনী
ও দেব-দেবীর genealogy
Comments
Post a Comment