বিভিন্ন পুরাণে দেব-দেবীদের বর্ণনা

 

হিন্দু পুরাণের দেব-দেবীর বর্ণনা

১. বেদ (Vedas)

  • ইন্দ্র: ইনি ছিলেন বজ্র, যুদ্ধ এবং আকাশের প্রধান দেবতা। তাকে স্বর্গের রাজা হিসেবে পূজা করা হতো এবং বিশ্বাস করা হতো যে তিনি দেবতাদের নেতৃত্ব দেন এবং বৃষ্টি নিয়ে আসেন।
  • অগ্নি: অগ্নি ছিলেন আগুনের দেবতা এবং যজ্ঞের প্রধান মধ্যস্থতাকারী। মানুষ বিশ্বাস করত যে তার মাধ্যমে দেওয়া প্রার্থনা ও নৈবেদ্য সরাসরি দেবতাদের কাছে পৌঁছায়।
  • সূর্য/সাম: সূর্য ছিলেন জ্ঞান, আলো এবং জীবনের দেবতা। তাকে রোগ নিরাময়কারী এবং জীবনের শক্তির উৎস হিসেবে গণ্য করা হতো।
  • বরুণ: বরুণ ছিলেন জল এবং আইন-নিয়মের দেবতা। তাকে মহাবিশ্বের নৈতিক শৃঙ্খলা 'ঋত'-এর রক্ষাকর্তা হিসেবে ধরা হতো।

২. উপনিষদ (Upanishads)

  • ব্রহ্মা: তিনি ছিলেন সৃষ্টির দেবতা, যিনি মহাবিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তাকে সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী এবং সর্বব্যাপী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
  • বিষ্ণু: বিষ্ণু ছিলেন জগতের রক্ষাকারী এবং পালনকর্তা। তার কাজ ছিল মহাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে অবতার রূপে পৃথিবীতে এসে অন্যায় দমন করা।
  • শিব/মহেশ্বর: শিব ছিলেন ধ্বংস এবং পুনঃসৃষ্টির দেবতা। তিনি একাধারে ধ্বংসকারী এবং একজন যোগী হিসেবে পূজিত হতেন। তার ধ্বংসের উদ্দেশ্য ছিল নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি করা।
  • অহম ব্রহ্মা: এটি কোনো দেবতা নন, বরং একটি দার্শনিক ধারণা। এটি বোঝায় যে প্রতিটি মানুষের আত্মা (আত্মা) এবং মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ সত্তা (ব্রহ্মা) একই।

৩. মহাভারত (Mahabharata)

  • কৃষ্ণ: কৃষ্ণ ছিলেন একজন অবতার, যিনি ধর্ম, ন্যায় এবং ভক্তির প্রতীক। তিনি অর্জুনের উপদেষ্টা হিসেবে ধর্মযুদ্ধ কুরুক্ষেত্র-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
  • ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির: যুধিষ্ঠির ছিলেন ন্যায় এবং সত্যের প্রতীক। তার চরিত্র মানবীয় দুর্বলতা সত্ত্বেও কীভাবে ধর্মকে অনুসরণ করতে হয়, তা শেখায়।
  • ভীষ্ম: ভীষ্ম ছিলেন সততা এবং কর্তব্যের প্রতীক। তিনি তার প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
  • দুর্যোধন: দুর্যোধন ছিলেন অহংকার এবং অন্যায়ের প্রতীক। তার চরিত্র দেখায় যে কীভাবে অহংকার মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

৪. রামায়ণ (Ramayana)

  • রাম: রাম ছিলেন আদর্শ পুরুষ, যিনি সত্য এবং ধর্মের প্রতীক। তার জীবন মানবীয় সম্পর্কের মর্যাদা, ত্যাগ এবং কর্তব্য সম্পর্কে শিক্ষা দেয়।
  • সীতা: সীতা ছিলেন ধর্ম, ভক্তি এবং সতীত্বের প্রতীক। তার চরিত্র নারীত্বের মর্যাদা ও পবিত্রতা তুলে ধরে।
  • লক্ষ্মণ: লক্ষ্মণ ছিলেন ভক্তি এবং বন্ধুত্বের প্রতীক। তিনি তার ভাইকে সর্বাবস্থায় সমর্থন দিয়েছিলেন।
  • হনুমান: হনুমান ছিলেন শক্তি, ভক্তি এবং বিশ্বাসের প্রতীক। তিনি রামের প্রতি তার অদম্য ভক্তির জন্য পরিচিত।
  • রাবণ: রাবণ ছিলেন অহংকার এবং অশুভ শক্তির প্রতীক। তার পরাজয় দেখায় যে কীভাবে অন্যায়ের শক্তি শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়।

৫. পুরাণ (Puranas)

  • বিষ্ণু: তিনি ছিলেন প্রধান দেবতা, যিনি জীবন রক্ষা এবং সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন যুগে অবতার (যেমন: রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ) রূপে পৃথিবীতে আসেন।
  • শিব: শিব ছিলেন ধ্বংস এবং পুনঃসৃষ্টির দেবতা। তিনি মহাবিশ্বের চক্রীয় প্রবাহের প্রতীক।
  • দুর্গা/কালী: এই দেবীরা ছিলেন শক্তি এবং অশুভ শক্তির বিনাশকারী। তারা অসুরদের পরাজিত করে পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন।
  • লক্ষ্মী: লক্ষ্মী ছিলেন সম্পদ, সৌভাগ্য এবং সমৃদ্ধির দেবী। তিনি বিষ্ণুর স্ত্রী।
  • সরস্বতী: সরস্বতী ছিলেন জ্ঞান, শিক্ষা এবং সঙ্গীতের দেবী। তিনি ব্রহ্মা-এর স্ত্রী।

গ্রিক পুরাণের বিভিন্ন দেব-দেবীর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:


১. ইলিয়াড (Iliad)

  • জিউস (Zeus): জিউস ছিলেন গ্রিক দেবরাজ, যিনি আকাশ ও বজ্রপাতের দেবতা। তাকে স্বর্গ এবং পৃথিবীর সর্বেসর্বা হিসেবে গণ্য করা হতো। তার প্রধান দায়িত্ব ছিল দেবতাদের এবং মানুষের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা।
  • হেরা (Hera): হেরা ছিলেন বিবাহ ও পরিবারের দেবী এবং জিউসের স্ত্রী। তিনি পারিবারিক জীবনের পবিত্রতা ও নারীত্বের প্রতীক হিসেবে পূজিত হতেন।
  • অ্যাথেনা (Athena): অ্যাথেনা ছিলেন যুদ্ধ ও জ্ঞানের দেবী। তাকে কৌশল, বুদ্ধি এবং সাহসের প্রতীক হিসেবেও ধরা হতো।
  • পসেইডন (Poseidon): পসেইডন ছিলেন সমুদ্র, ভূমিকম্প এবং ঘোড়ার দেবতা। তার রাগ সমুদ্রের ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণ বলে মনে করা হতো।
  • অ্যাপোলো (Apollo): অ্যাপোলো ছিলেন সূর্য, সঙ্গীত, কবিতা এবং জ্যোতির দেবতা। তিনি শিল্পকলা ও জ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
  • অ্যারিস (Ares): অ্যারিস ছিলেন যুদ্ধের দেবতা। তিনি রণক্ষেত্রের শক্তি ও হিংসার প্রতীক ছিলেন।

২. ওডিসি (Odyssey)

  • জিউস (Zeus): ওডিসিতেও জিউসকে দেবরাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি মানব ও দেবতাদের কর্মের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা পালন করতেন।
  • অ্যাথেনা (Athena): অ্যাথেনা ছিলেন বুদ্ধি ও কৌশলের দেবী। তিনি ওডিসিয়াসের দীর্ঘ যাত্রায় তাকে বুদ্ধি ও কৌশল দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।
  • পসেইডন (Poseidon): পসেইডন ছিলেন সমুদ্রের দেবতা। তিনি ওডিসিয়াসের যাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে তার দুঃসাহসিক অভিযানের কারণ হয়েছিলেন।
  • হেলিওস (Helios): হেলিওস ছিলেন সূর্যদেব। তিনি যাত্রার পথে আলো ও পথ নির্দেশক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

৩. থিওগনি (Theogony)

  • ক্রোনাস (Cronus): ক্রোনাস ছিলেন সময় ও ক্ষমতার দেবতা। তিনি তার পিতা ইউরেনাসকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজত্ব লাভ করেন।
  • ইউরেনাস (Uranus): ইউরেনাস ছিলেন আকাশের দেবতা এবং প্রাথমিক সৃষ্টির প্রতীক। তাকে প্রথম প্রজন্মের দেবতা হিসেবে ধরা হয়।
  • গাইয়া (Gaia): গাইয়া ছিলেন পৃথিবীর দেবী এবং সৃষ্টির জননী। তিনি সবকিছুর উৎস এবং জীবনদাত্রী হিসেবে পরিচিত।
  • জিউস (Zeus): এই গ্রন্থে জিউসের জন্ম এবং কীভাবে তিনি তার পিতা ক্রোনাসকে পরাজিত করে দেবরাজ হন, তার বর্ণনা রয়েছে।

৪. ওয়ার্কস অ্যান্ড ডেজ (Works and Days)

  • জিউস (Zeus): এই গ্রন্থে জিউসকে ন্যায় ও আইন রক্ষাকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি মানব সমাজে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠা করেন।
  • পার্সেফোন (Persephone): পার্সেফোন ছিলেন ঋতু ও কৃষির দেবী। পাতালপুরীতে তার অবস্থানের কারণে পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন হয় বলে বিশ্বাস করা হতো।
  • প্লুটো (Plutus): প্লুটো ছিলেন সম্পদ ও ধন-সম্পদের দেবতা। তাকে কৃষি ও পরিশ্রমের ফলস্বরূপ প্রাপ্ত সম্পদের প্রতীক হিসেবে ধরা হতো।

রোমান পুরাণের দেব-দেবীর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।


১. আনেইড (Aeneid)

  • জুপিটার (Jupiter): ইনি ছিলেন রোমানদের প্রধান দেবতা, দেবরাজ, এবং আকাশ ও আইনের রক্ষাকারী। গ্রিক পুরাণে তার সমকক্ষ দেবতা হলেন জিউস। জুপিটারকে রাজ্যের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে ধরা হতো।
  • জুনো (Juno): জুনো ছিলেন জুপিটারের স্ত্রী এবং বিবাহ ও পরিবারের দেবী। গ্রিক পুরাণে তার সমকক্ষ হলেন হেরা। তিনি রোম সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
  • মিনারভা (Minerva): মিনারভা ছিলেন জ্ঞান, কৌশল, এবং শিল্পের দেবী। তিনি গ্রিক দেবী অ্যাথেনা-র সমতুল্য।
  • ভেনাস (Venus): ভেনাস ছিলেন প্রেম, সৌন্দর্য, এবং উর্বরতার দেবী। তিনি ট্রয়ের নায়ক এ্যানিয়াসের মা ছিলেন এবং রোমান জাতির পূর্বপুরুষ হিসেবে পূজিত হতেন। গ্রিক পুরাণে তিনি অ্যাফ্রোডাইট নামে পরিচিত।
  • নেপচুন (Neptune): নেপচুন ছিলেন সমুদ্র ও জলজ শক্তির দেবতা। গ্রিক পুরাণের পসেইডন-এর মতো তিনিও সমুদ্রের ওপর কর্তৃত্ব করতেন।
  • মার্স (Mars): মার্স ছিলেন যুদ্ধের দেবতা এবং রোমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। রোমের প্রতিষ্ঠাতা রোমুলুস এবং রেমুসের পিতা হিসেবে তাকে রোমান জাতির একজন গুরুত্বপূর্ণ পূর্বপুরুষ হিসেবে গণ্য করা হতো। গ্রিক পুরাণে তার সমকক্ষ হলেন অ্যারিস।

২. মেটামরফোসিস (Metamorphoses)

  • জুপিটার (Jupiter): এই কাব্যে জুপিটারকে দেবরাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যিনি আকাশ এবং মানুষের কর্মের উপর কর্তৃত্ব করেন।
  • মার্স (Mars): তিনি এখানে যুদ্ধের দেবতা হিসেবেই পরিচিত।
  • অ্যাপোলো (Apollo): অ্যাপোলো ছিলেন সঙ্গীত, জ্যোতি এবং চিকিৎসার দেবতা।
  • ডায়ানা (Diana): ডায়ানা ছিলেন চন্দ্র, শিকার এবং প্রকৃতির দেবী। তিনি গ্রিক দেবী আর্টেমিস-এর সমকক্ষ।
  • ভেনাস (Venus): এখানেও ভেনাস প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
  • প্রোসারপিনা (Proserpina): প্রোসারপিনা ছিলেন কৃষি ও ঋতুর দেবী। তার পাতালপুরীতে অবস্থানের কারণেই ঋতু পরিবর্তন হয় বলে বিশ্বাস করা হতো। গ্রিক পুরাণে তার নাম পার্সেফোন।

নর্স পুরাণের দেব-দেবীর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।


১. পোয়েটিক এড্ডা (Poetic Edda)

  • ওদিন (Odin): ওদিন ছিলেন নর্স পুরাণের প্রধান দেবতা এবং জ্ঞানের, জাদু ও যুদ্ধের নিয়ন্ত্রক। তাকে এক চোখওয়ালা বৃদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়, যিনি জ্ঞান লাভের জন্য নিজের একটি চোখ উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি অস্থায়ী জীবন এবং মৃত্যুরও নিয়ন্ত্রক।
  • থর (Thor): থর ছিলেন বজ্র এবং বজ্রাস্ত্র (Mjölnir)-এর দেবতা। তিনি দেবতাদের এবং মানবজাতির রক্ষাকারী হিসেবে পূজিত হতেন। তার প্রধান কাজ ছিল দানব বা জায়েন্টদের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করা।
  • ফ্রেয়া (Freyja): ফ্রেয়া ছিলেন প্রেম, সৌন্দর্য, এবং উর্বরতার দেবী। তিনি যুদ্ধে বিজয়ী নারী এবং জাদুকরী বিদ্যারও প্রতীক ছিলেন।
  • লোকি (Loki): লোকি ছিলেন ধূর্ত, ধোঁকা এবং রূপান্তরের দেবতা। তার চরিত্র খুবই জটিল, কারণ তিনি কখনও দেবতাদের সাহায্য করতেন আবার কখনও তাদের বিপদে ফেলতেন।
  • হেল (Hel): হেল ছিলেন মৃত্যুর ও মৃত্যুর পরের জগতের দেবী। তার রাজ্য 'হেল' নামে পরিচিত ছিল, যেখানে বীর নন এমন মৃত আত্মারা বাস করত।

২. প্রোজ এড্ডা (Prose Edda)

  • ওদিন (Odin): এই গ্রন্থেও ওদিনকে জ্ঞান, জাদু, যুদ্ধ এবং মৃত্যুর প্রধান দেবতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি দেবতাদের বংশের প্রধান।
  • থর (Thor): থর ছিলেন বজ্র, সুরক্ষা এবং শক্তির দেবতা। তার ক্ষমতা এবং বীরত্ব তাকে সবচেয়ে জনপ্রিয় নর্স দেবতাদের মধ্যে একজন করে তুলেছিল।
  • ফ্রেয়া (Freyja): ফ্রেয়া ছিলেন প্রেম, সৌন্দর্য এবং যুদ্ধে বিজয়ী দেবী।
  • ফ্রে (Freyr): ফ্রে ছিলেন সমৃদ্ধি, ফসল এবং শান্তির দেবতা। তিনি উর্বরতা এবং ভালো ফসলের জন্য পূজিত হতেন।
  • লোকি (Loki): এই গ্রন্থে লোকির কৌশল, ধোঁকা এবং রূপান্তরের ক্ষমতাকে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা নর্স পুরাণের অনেক বড় ঘটনার কারণ ছিল।

মিশরীয় পুরাণের দেব-দেবীর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।


১. পিরামিড টেক্সটস (Pyramid Texts)

  • রা (Ra): রা ছিলেন সূর্য দেবতা, যিনি সৃষ্টি, আলো এবং জীবনের প্রতীক। তাকে মিশরীয় পুরাণের প্রধান দেবতা হিসেবে গণ্য করা হতো, যিনি প্রতিদিন সূর্যের নৌকায় করে আকাশ অতিক্রম করে বিশ্বকে জীবন দান করেন।
  • ওসিরিস (Osiris): ওসিরিস ছিলেন মৃত্যুর পর জীবন এবং পুনর্জন্মের দেবতা। তাকে মিশরীয়দের মধ্যে মৃতদের বিচারক এবং পাতালপুরীর শাসক হিসেবে মানা হতো।
  • আইসিস (Isis): আইসিস ছিলেন জাদু, প্রেম এবং মাতৃত্বের দেবী। তিনি তার জাদু দিয়ে মৃত ওসিরিসকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তাকে মিশরীয়দের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দেবী হিসেবে মানা হতো।
  • হোরাস (Horus): হোরাস ছিলেন আকাশ এবং রাজ্যের দেবতা। তিনি ছিলেন ওসিরিস এবং আইসিসের পুত্র এবং মিশরের ফারাওদের পৃষ্ঠপোষক। তাকে প্রায়শই বাজপাখির মাথাযুক্ত মানুষ হিসেবে চিত্রিত করা হয়।
  • সেত (Set): সেত ছিলেন অশুভ শক্তি, যুদ্ধ এবং অরাজকতার দেবতা। তিনি ছিলেন ওসিরিসের ভাই এবং তার হত্যাকারী।

২. কফিন টেক্সটস (Coffin Texts)

  • রা (Ra): এখানেও রা-কে সূর্য ও আকাশের দেবতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি জীবনের চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
  • ওসিরিস (Osiris): ওসিরিস ছিলেন মৃত্যুর পর জীবন এবং ন্যায়ের দেবতা। মৃতদের আত্মা তার সামনে বিচার পেত।
  • আইসিস (Isis): আইসিস ছিলেন জাদু, মাতৃত্ব এবং সুরক্ষার দেবী। তিনি তার মন্ত্র ও ক্ষমতা দিয়ে মৃতদের রক্ষা করতেন।
  • হোরাস (Horus): হোরাস ছিলেন আকাশ এবং রাজত্বের দেবতা। তিনি রাজকীয় ক্ষমতার প্রতীক ছিলেন।
  • অ্যানুবিস (Anubis): অ্যানুবিস ছিলেন মৃতদেহের সংরক্ষণ এবং মমিফিকেশনের দেবতা। তিনি মৃতদের আত্মাকে পাতালপুরীর পথে পথপ্রদর্শন করতেন।

৩. বুক অফ দ্য ডেড (Book of the Dead)

  • রা (Ra): এখানেও রা সূর্য এবং জীবনের দেবতা।
  • ওসিরিস (Osiris): ওসিরিস ছিলেন মৃত্যুর পর জীবন এবং ন্যায়ের দেবতা, যিনি মৃতদের আত্মাকে বিচার করতেন।
  • আইসিস (Isis): আইসিস মাতৃত্ব, সুরক্ষা এবং জাদুর দেবী হিসেবে মৃতদের আত্মাকে সাহায্য করতেন।
  • হোরাস (Horus): হোরাস ছিলেন আকাশ, রাজত্ব এবং শক্তির দেবতা।
  • অ্যানুবিস (Anubis): অ্যানুবিস মৃতদেহ রক্ষা করতেন এবং পাতালপুরীর পথে আত্মাকে পথ দেখাতেন।
  • থথ (Thoth): থথ ছিলেন জ্ঞান, লেখনী এবং ন্যায়ের দেবতা। তাকে প্রায়শই আইবিস পাখির মাথাযুক্ত মানুষ হিসেবে চিত্রিত করা হতো। তিনি ওসিরিসের বিচারের সময় বিচারকের ভূমিকা পালন করতেন এবং মৃতদের ভালো-মন্দ কাজের হিসাব রাখতেন।

মেসোপটেমীয় পুরাণের দেব-দেবীর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।


১. এনুমা এলিশ (Enuma Elish)

  • আপসু (Apsu): আপসু ছিলেন মিষ্টি পানির দেবতা এবং সৃষ্টির প্রাথমিক উপাদান। তিনিই বিশৃঙ্খল মহাবিশ্ব থেকে দেব-দেবীর জন্ম দেন।
  • টিয়ামাট (Tiamat): টিয়ামাট ছিলেন লবণাক্ত জল ও বিশাল সমুদ্রের দেবী, যিনি প্রাচীন শক্তির প্রতীক। তিনি তার সন্তানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত মারদুকের হাতে পরাজিত হন।
  • এয়া (Ea/Enki): এয়া ছিলেন জ্ঞান, জাদু এবং জলের দেবতা। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন এবং প্রায়শই তিনি অন্য দেবতাদের কৌশল দিয়ে সাহায্য করতেন।
  • মারদুক (Marduk): মারদুক ছিলেন ব্যাবিলনীয়দের প্রধান দেবতা, যিনি সৃষ্টিকর্তা এবং শক্তির প্রতীক। তিনি টিয়ামাটকে পরাজিত করে মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন।
  • অ্যানু (Anu): অ্যানু ছিলেন আকাশের দেবতা এবং দেবরাজ। তিনি দেবতাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রতীক ছিলেন।

২. গিলগামেশ মহাকাব্য (Epic of Gilgamesh)

  • শামাশ (Shamash): শামাশ ছিলেন সূর্য এবং ন্যায়ের দেবতা। তিনি মহাকাব্যের নায়ক গিলগামেশের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাকে তার দুঃসাহসিক অভিযানে সাহায্য করতেন।
  • ইনন্না / ইশতার (Inanna/Ishtar): ইনন্না ছিলেন প্রেম, প্রজনন এবং যুদ্ধের দেবী। তিনি ব্যাবিলনীয় পুরাণে ইশতার নামে পরিচিত। তিনি গিলগামেশের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
  • এয়া / এনকি (Ea/Enki): এয়া ছিলেন জ্ঞান ও জাদুর দেবতা, যিনি মানুষকে সাহায্য করতেন। তিনি মানবজাতিকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।
  • উতনাপিস্তিম (Utnapishtim): উতনাপিস্তিম ছিলেন একজন অমরত্ব প্রাপ্ত মানব। তিনি দেব-দেবীর কাছ থেকে অমরত্বের জ্ঞান লাভ করেছিলেন এবং গিলগামেশ তার কাছে অমরত্বের সন্ধানে গিয়েছিলেন।

চীনা পুরাণের দেব-দেবী ও চরিত্রের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।


১. শানহাই জিং (Shan Hai Jing)

  • পান গু (Pangu): পান গু ছিলেন বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি একটি আদিম ডিমের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন এবং জেগে উঠে কুঠার দিয়ে ডিম ভেঙে আকাশ ও পৃথিবীকে আলাদা করেন। তার শরীর থেকে মহাবিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি হয়।
  • নুয়া (Nuwa): নুয়া ছিলেন মানবজাতির সৃষ্টিকর্ত্রী এবং পৃথিবী সংস্কারের দেবী। বলা হয়, তিনি কাদা দিয়ে মানুষ তৈরি করেছিলেন এবং আকাশের একটি ফাটল মেরামত করেছিলেন, যা পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।
  • ফু হসি (Fuxi): ফু হসি ছিলেন সভ্যতা, বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন পদ্ধতির দেবতা। তিনিই প্রথম মানবকে আগুন জ্বালাতে, মাছ ধরতে এবং শিকার করতে শিখিয়েছিলেন।
  • শি হুয়াং (Shih Huang): শি হুয়াং একজন কিংবদন্তি রাজা ছিলেন, যিনি আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাকে চীনা জাতির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও ধরা হয়।

২. আই চিং (I Ching)

  • তিয়ান (Tian): তিয়ান ছিলেন আকাশ এবং স্বর্গের শক্তি। তিনি নৈতিক নিয়ম এবং মহাবিশ্বের শৃঙ্খলার প্রতীক ছিলেন। তাকে প্রায়শই ঈশ্বরের সমতুল্য হিসেবে দেখা হতো।
  • ই-চিং চিহ্নের দেবতা: এই চিহ্নের দেবতারা মূলত প্রতীকী শক্তি, যারা জীবন, ভাগ্য এবং পরিবর্তনের নিয়ন্ত্রণকারী। তারা মানুষের ভাগ্য এবং জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে।
  • কনফুসিয়াস (Confucius): কনফুসিয়াস এখানে দেবতা নন, বরং একজন দার্শনিক। তিনি 'আই চিং'-এর ব্যাখ্যা এবং সম্পাদনার মাধ্যমে এই গ্রন্থটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলেন এবং নৈতিক শিক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

জাপানি পুরাণের দেব-দেবীর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।


১. কোজিকি (Kojiki)

  • ইযানাগি (Izanagi): ইযানাগি ছিলেন একজন সৃষ্টিকর্তা দেবতা। তিনি তার স্ত্রী ইযানামি-র সঙ্গে মিলে জাপানের দ্বীপসমূহ এবং অন্যান্য দেব-দেবীকে সৃষ্টি করেন।
  • ইযানামি (Izanami): ইযানামি ছিলেন সৃষ্টি ও মৃত্যুর দেবী এবং ইযানাগির সহধর্মিণী। তিনি জীবনের চক্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত, কারণ তিনিই পৃথিবীতে মৃত্যু নিয়ে এসেছিলেন।
  • আমাতেরাসু (Amaterasu): আমাতেরাসু ছিলেন সূর্য দেবী এবং স্বর্গীয় রাজত্বের প্রধান দেবী। তাকে জাপানের রাজপরিবারের পূর্বপুরুষ হিসেবে ধরা হয়।
  • সুসানোও (Susanoo): সুসানোও ছিলেন সমুদ্র ও ঝড়ের দেবতা। তিনি শক্তি ও সাহসের প্রতীক ছিলেন, কিন্তু তার হিংস্র আচরণের জন্য তিনি প্রায়ই অন্যদের সঙ্গে বিতর্কে জড়াতেন।
  • সারুকাহিমে (Sarukahime): সারুকাহিমে ছিলেন বন ও পশুপাখির দেবী।

২. নিহোন শোকি (Nihon Shoki)

  • আমাতেরাসু (Amaterasu): এই গ্রন্থে আমাতেরাসুকে সূর্য দেবী এবং জাপানের রাজপরিবারের পূর্বপুরুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
  • সুসানোও (Susanoo): সুসানোও এখানেও সমুদ্র ও ঝড়ের দেবতা, এবং সাহস ও শক্তির প্রতীক।
  • সা-সুকে (Tsukuyomi): সা-সুকে ছিলেন চাঁদ দেবতা, যিনি রাত ও সময়ের নিয়ন্ত্রক। তিনি আমাতেরাসুর ভাই ছিলেন।
  • ইযানাগি ও ইযানামি: এই দুই সৃষ্টিকর্তা দেবদম্পতিকে এখানেও জাপানের দ্বীপসমূহের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
  • ওকুনিনুশি (Okuninushi): ওকুনিনুশি ছিলেন ভূমি ও সমৃদ্ধির দেবতা। তিনি মানুষের আশীর্বাদ ও ভালো ফসলের জন্য পূজিত হতেন।

মায়ান পুরাণের দেব-দেবী ও চরিত্রের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।


১. পোপল ভুহ (Popol Vuh)

  • হুরাকান (Huracan): ইনি ছিলেন বাতাস, ঝড় এবং সৃষ্টির দেবতা। তার নাম থেকেই ইংরেজি শব্দ "Hurricane" এসেছে। তিনি তাঁর শক্তি দিয়ে পৃথিবী সৃষ্টি এবং মানবজাতিকে রক্ষা করতেন।
  • গুকুমাতিজ (Gukumatz): গুকুমাতিজ ছিলেন চাষাবাদ, শস্য এবং সমৃদ্ধির দেবতা। তাকে একটি পালকযুক্ত সাপ হিসেবে কল্পনা করা হতো, যা মেসোআমেরিকান সভ্যতায় পবিত্র বলে বিবেচিত হতো।
  • টোকোলো (Tocotl): টোকোলো ছিলেন সূর্য ও আলোর দেবতা। তিনি মানুষের জীবনে উষ্ণতা এবং আলোর উৎস ছিলেন।
  • ইক্সচি'ক (Ixchel): ইক্সচি'ক ছিলেন চন্দ্র, মাতৃত্ব ও চিকিৎসার দেবী। তাকে প্রায়শই একজন বৃদ্ধ মহিলা হিসেবে দেখানো হয়, যিনি রোগ নিরাময় এবং জন্মদানে সহায়তা করেন।
  • হুনাহপু ও শুবহু (Hunahpu & Xbalanque): এই দুই ভাই ছিলেন হিরো দেবতা, যারা নৈতিক শিক্ষা ও সৃজনশীলতার প্রতীক। তাদের পাতালপুরী ভ্রমণের কাহিনী মায়ান পুরাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে তারা অন্ধকারের শক্তিকে পরাজিত করেন।

ইনকা পুরাণের দেব-দেবী ও চরিত্রের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।


১. হুয়ারোচিরি ম্যানুস্ক্রিপ্ট (Huarochirí Manuscript)

  • ইলাপা (Illapa): ইলাপা ছিলেন বজ্র, বৃষ্টি এবং যুদ্ধের দেবতা। ইনকা সভ্যতায় বৃষ্টি এবং শস্যের জন্য তার পূজা করা হতো। তাকে শস্যের বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে ধরা হতো।
  • পাচাকুতি/পাচামামা (Pachacuti/Pachamama): পাচাকুতি ছিলেন পৃথিবী, কৃষি এবং সমৃদ্ধির দেবতা। 'পাচামামা' নামটি নারীবাচক, যিনি পৃথিবী মাতা হিসেবে পূজিত হতেন। তিনি শস্যের উর্বরতা এবং জীবনের উৎস হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
  • ভিরাকোচা (Viracocha): ভিরাকোচা ছিলেন সৃষ্টিকর্তা দেবতা। তিনি সূর্য, আকাশ এবং মহাবিশ্বের নৈতিকতা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাকে ইনকাদের সর্বোচ্চ দেবতা হিসেবে ধরা হতো, যিনি পৃথিবী, মানুষ এবং অন্যান্য দেবতাদের সৃষ্টি করেছেন।
  • সাপা ইনকা (Sapa Inca): সাপা ইনকা কোনো দেবতা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ইনকা সম্রাট। তাকে মানব এবং দেবতার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এবং রাজতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হতো।
  • কোয়িলা (Quilla): কোয়িলা ছিলেন চাঁদ ও মহিলাদের প্রজননের দেবী। তিনি ইনকাদের প্রধান দেবী এবং সূর্য দেবতার বোন ও স্ত্রী ছিলেন।

কেল্টিক পুরাণের দেব-দেবী ও চরিত্রের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।


১. মাবিনোগিওন (Mabinogion)

  • দানু (Danu): দানু ছিলেন নদী ও প্রাচীন দেবী, যিনি ডানুয়ান জাতির জননী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাতৃত্ব, উর্বরতা এবং জলের প্রতীক ছিলেন।
  • লুগ (Lugh): লুগ ছিলেন সূর্য, জ্ঞান, কৌশল এবং যুদ্ধে বিজয়ের দেবতা। তাকে কেল্টিক পুরাণের অন্যতম শক্তিশালী ও বহুমুখী দেবতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
  • ওয়েল/বেলেনুস (Wel / Belenus): ওয়েল বা বেলেনুস ছিলেন সূর্য, আলো এবং উর্বরতার দেবতা। তার পূজা বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন উৎসবের সময় হতো।
  • অ্যানানসি (Anansi): এটি একটি স্থানীয় দেবতা, যিনি গল্প, জ্ঞান এবং নৈতিকতার প্রতীক ছিলেন।

২. লেবোর গাবালা এরেন (Lebor Gabála Érenn)

  • দানু (Danu): এখানেও দানুকে নদী ও মাতৃত্বের দেবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • লুগ (Lugh): লুগ ছিলেন সূর্য, কৌশল এবং যুদ্ধে বিজয়ের দেবতা।
  • দাগডা (Dagda): দাগডা ছিলেন সৃষ্টিশীলতা, প্রাকৃতিক শক্তি এবং সমৃদ্ধির দেবতা। তাকে একজন শক্তিশালী এবং জ্ঞানী নেতা হিসেবে দেখানো হয়।
  • ব্রিগিড (Brigid): ব্রিগিড ছিলেন কবিতা, শিল্প এবং চিকিৎসার দেবী। তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত দেবী, যিনি জ্ঞান ও নিরাময়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

Comments

Popular posts from this blog

Fill in the blanks with explanation

বিসিএস পরীক্ষায় প্রদত্ত Preposition -এর প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা

Auxiliary Verb ও তার ব্যবহার